ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসাই জীবন বাঁচানোর চাবিকাঠি।
কলকাতা নিজস্ব প্রতিনিধ :- ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারএই ক্যান্সারের মধ্যে জিহ্বা, গাল, ঠোঁট, তালু ও গলার ক্যান্সার অন্তর্ভুক্ত। তামাক বা গুটখা সেবনকারীদের এবং যাদের দাঁতের ধারালো অংশ দীর্ঘদিন মুখে ক্ষত সৃষ্টি করে, তাদের ঝুঁকি বেশি। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জিহ্বা বা গালে ব্যথাসহ বা ব্যথাহীন ঘাঘাড়ে ফোলাকণ্ঠস্বরের পরিবর্তনখাবার গিলতে অসুবিধাপ্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব।স্তন ক্যান্সারবর্তমানে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ক্যান্সারগুলোর অন্যতম হলো স্তন ক্যান্সার। এটি সাধারণত স্তনে একটি পিণ্ড বা অস্বাভাবিক গাঁট হিসেবে ধরা পড়ে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই স্তন সংরক্ষণ করেই সফল চিকিৎসা করা সম্ভব।থাইরয়েড ক্যান্সারথাইরয়েড ক্যান্সার প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়। এটি সাধারণত ঘাড়ের মাঝখানে বা পাশে ফোলা হিসেবে দেখা দেয়। যদিও অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হয়, তবুও বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসার ফল ভালো। বর্তমানে ন্যূনতম আক্রমণাত্মক (Minimally Invasive) পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারও করা হচ্ছে।গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (পরিপাকতন্ত্রের) ক্যান্সারবর্তমানে খাদ্যনালী, পাকস্থলী, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, পিত্তথলি, কোলন ও মলদ্বারের ক্যান্সারের হার ক্রমশ বাড়ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ক্যান্সার এখন তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে ভৌগোলিক কারণে পিত্তথলি ও যকৃতের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। আধুনিক ন্যূনতম আক্রমণাত্মক অস্ত্রোপচার রোগীদের দ্রুত সুস্থ হতে এবং উন্নত ফলাফল পেতে সহায়তা করছে।স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত (গাইনোকোলজিক্যাল) ক্যান্সারনারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ (সার্ভিক্স), জরায়ু, ডিম্বাশয় ও অন্যান্য স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত ক্যান্সার অন্যতম। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, HPV টিকা, প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এসব ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সফল চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সচেতনতাই সর্বোত্তম প্রতিরোধতামাক ও তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ পরিহার করুন।সুষম খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন।শরীরে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ক্যান্সার স্ক্রিনিং করান।মনে রাখবেন, ক্যান্সার মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়। সচেতনতা, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই পারে একটি মূল্যবান জীবন বাঁচাতে।